নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০৭:১৭
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রচুর
পর্যটক ভারতে ঘুরতে যায়। ঘোরাঘুরি ছাড়াও চিকিৎসা ও ব্যবসায়ীক কাজেও অসংখ্য মানুষ ভারতের
বিভিন্ন প্রদেশে যাতায়াত করে। তবে অধিকাংশ পর্যটকদের ও ব্যবসায়ীদের পছন্দের তালিকায়
শীর্ষে রয়েছে কলকাতা। ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন ও বিমানযোগে কলকাতা যাওয়া-আসা করা যায়।
ঢাকা-কলকাতা রুটে চলাচল করা
আন্তর্জাতিক ট্রেনের নাম মৈত্রী এক্সপ্রেস। চলুন জেনে নেই এ ট্রেনে কলকাতা ভ্রমণের
আদ্যোপান্ত-
মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচি
মৈত্রী এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে কলকাতা
সপ্তাহে চার দিন যায়। বুধ, শুক্র, শনি ও রবিবার। ট্রেনটি কলকাতার উদ্দেশ্যে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
স্টেশন থেকে ছেড়ে যায় সকাল সোয়া ৮টায়। কলকাতা চিৎপুর স্টেশনে পৌঁছায় বিকাল ৪টায়।
একইভাবে কলকাতা থেকে এ ট্রেন ঢাকা আসে সপ্তাহে চার দিন। সোম, মঙ্গল, শুক্র ও শনিবার।
কলকাতা চিৎপুর স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়ে সকাল ৭টা ১০ মিনিটে। ঢাকায় পৌঁছায় বিকাল ৪টা
৫ মিনিটে।
টিকিটের মূল্য
দেশের বাইরে অন্য কোনো দেশ ভ্রমণ
করতে হলে সে দেশের ইমিগ্রেশন বাবদ ভ্রমণ ফি দিতে হয়। মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনে কলকাতা
ভ্রমণ করতে চাইলে ট্রেনের টিকিটের সঙ্গে ভ্রমন ট্যাক্স ফি যুক্ত থাকে।
এসি কেবিন
ঢাকা থেকে কলকাতা যাওয়ার এসি কেবিনের
টিকিটের মূল্য ২ হাজার ৯৩৫ টাকা। এর সাথে ৫০০ টাকা ভ্রমণ ট্যাক্স ফি যুক্ত হলে মোট
ভাড়া দাঁড়ায় ৩ হাজার ৪৩৫ টাকা।
অন্যদিকে কলকাতা থেকে ঢাকা আসার
এসি কেবিনের টিকিটের মূল্য ২ হাজার ১৫ টাকা (ভারতীয় মুদ্রা)।
এসি চেয়ার
এসি চেয়ার টিকিটের মূল্য ১ হাজার
৯৫৫ টাকা। এ ছাড়া ভ্রমণ ট্যাক্স ফি বাবদ আরও ৫০০ টাকা করে যুক্ত হবে। এসি চেয়ার টিকিটের
মূল্য ১ হাজার ৩৪৫ টাকা (ভারতীয় মুদ্রা)।
১ থেকে ৫ বছরের শিশুদের টিকেটে
৫০ শতাংশ ছাড় রয়েছে।
ঢাকা টু কলকাতা ট্রেনের টিকেট
বুকিং
বাংলাদেশের দুটি জায়গা থেকে মৈত্রী
ট্রেনের টিকেট বুকিং দেওয়া যায়। ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন ও চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে।
প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত টিকিট কাটা যাবে।
টিকেট কেনার জন্য কাউন্টারে গিয়ে
বৈধ পাসপোর্ট দেখিয়ে একটি ফর্ম সংগ্রহ করতে হবে। সেটা পূরণ করে অপেক্ষা করতে হবে। কিছু
সময় পরে টিকেট দেওয়া হবে। ঢাকা-কলকাতা ট্রেনের টিকেট নেওয়ার সময় ভিসা না দেখালেও চলবে।
তবে রিটার্ন টিকেট নেওয়ার সময় অবশ্যই ভ্যালিড ভিসা দেখাতে হবে।
কলকাতা টু ঢাকা ট্রেনের টিকেট
বুকিং
কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে কলকাতা
টু ঢাকার টিকেট কাটা যাবে। কলকাতা টু ঢাকা ট্রেনের ২০ পার্সেন্ট বুকিং ঢাকা থেকে দেওয়া
হয়। বাকি ৮০ পার্সেন্ট কলকাতার ডালহৌসির ফেয়ারলি প্লেস রেলওয়ে বিল্ডিং ও চিতপুরস্থ
কলকাতা টার্মিনাল স্টেশন থেকে কাটা যায়। এ দুই জায়গা ছাড়া আর কোথাও কলকাতা-ঢাকা রুটের
টিকেট বিক্রি হয় না।
ফেয়ারলি প্লেসে স্থানীয় সময় সকাল
১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রতিদিন টিকিট কাটা যাবে। একইভাবে কলকাতার চিৎপুর স্টেশন
থেকে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত টিকেট বুকিং চলমান।
ঢাকা টু কলকাতা ট্রেনের ইমিগ্রেশন
মৈত্রী এক্সপ্রেস ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট
রেলস্টেশন থেকে ছাড়ে। প্রথমে স্টেশনে পৌঁছে ইমিগ্রেশন ফরম সংগ্রহ করে পূরণ করে নিতে
হবে। কলকাতা স্টশনে পৌঁছাবার আগে ট্রেনেই ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশনের পক্ষ থেকে ডিসএম্বারকেশন
কার্ড দেওয়া হবে। কার্ড পূরণ করে স্টেশন থেকে নেমে ইমিগ্রেশন লাইনে দাঁড়াতে হবে। সেখানে
ভারতীয় শুল্ক কর্তৃপক্ষ একটি ডিক্লেয়ারেশন ফর্ম দিবে। ফর্মটি পূরণ করে সঙ্গে রাখতে
হবে। ইমিগ্রেশন শেষ হয়ে গেলে ফর্মটি জমা দিয়ে বের হয়ে যেতে পারবেন।
সতর্কতা
১। টিকিট কাটার ও যাতায়াতের সময়
রেলওয়ে ওয়েবসাইট দেখে নিন।
২। টিকিটের সঠিক মূল্য সংশ্লিষ্ট
ওয়েবসাইট থেকে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
এসবি/এআর