নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১৩ মার্চ ২০২৩ ১০:১০
ছবি: সংগৃহীত
মালদ্বীপ বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলোর মধ্যে একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যার উচ্চতা
মাত্র দুই দশমিক তিন মিটার। এ যেন সমুদ্র জলে দাঁড়িয়ে আছে এক নীল দেশ। হাজার অধিক দ্বীপ
এবং ২৬টি প্রবালদ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত এ দেশ। আর এই দ্বীপদেশটি অপার্থিব সব বিলাসিতার
কেন্দ্রবিন্দু। যে কারণে নামকরা তারকা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাই মালদ্বীপ ভ্রমণে
ভিড় করেন। বর্তমানে মালদ্বীপ সবারই স্বপ্নের গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
চলুন জেনে
নেই মালদ্বীপের বিখ্যাত কয়েকটি পর্যটন স্পট সম্পর্কে-
মালে
দ্বীপ
ছবি: সংগৃহীত
মালদ্বীপের
রাজধানী মালে। প্রায় দেড় কিলোমিটার লম্বা ও এক কিলোমিটার চওড়া এ শহরটি দেশটির সবচেয়ে
বড় ও বিশ্বের অন্যতম জনবহুল শহর। মালদ্বীপ ভ্রমণে বিশ্ব পরিব্রাজকদের প্রথম পছন্দ
হলো এ মালে শহর। এখানে আছে প্রবাল পাথরে বানানো ওল্ড ফ্রাইডে বা হুকুরু মস্ক, মালে
মাছ বাজার, ভারুনুলা রালহুগান্ধু, মালে জাতীয় জাদুঘর, মুলি আজ প্যালেস এবং সুনামি
স্মৃতিস্তম্ভ। স্নোর্কেলিং ও সার্ফিংয়েরর জন্য উপযুক্ত জায়গা এই দ্বীপটি।
বাংলাদেশ
থেকে সরাসরি ব্যবস্থা আছে মালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার। এয়ারপোর্ট থেকে মাত্র
৪ কিলোমিটার দূরত্বে ট্যাক্সি করে পৌঁছানো যায় মালেতে।
বারোস দ্বীপ
ছবি: সংগৃহীত
বারোস আইল্যান্ড
মালদ্বীপের প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা লাক্সারিয়াস রিসোর্টভিত্তিক দ্বীপ। পর্যটকদের
সুবিধার্থে দ্বীপটি সুন্দরভাবে পর্যটন স্থান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। সমগ্র ভারতের
সামুদ্রিক অঞ্চলগুলোর মধ্যে এই বিলাসবহুল রিসোর্ট দ্বীপটি সবার ঊর্ধ্বে। হানিমুনের
জন্যে বিখ্যাত এই দ্বীপের প্রধান আকর্ষণ ওয়াটার স্কাইং, উইন্ড সার্ফিং, ওয়াটার বোর্ডিং
এবং ক্যানোইং।
মালে এয়ারপোর্ট
থেকে ২৫ মিনিট দূরত্বের বারোসে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম স্পিড বোট বা ফেরি।
হুলহুমালে দ্বীপ
দ্বীপদেশ
মালদ্বীপের মধ্যমণি হলো এর বৃহত্তম দ্বীপ হুলহুমালে। হুলহুমালে থেকে সাগরের ওপর দিয়ে
একটা সেতুর মাধ্যমে রাজধানী মালের সঙ্গে সংযুক্ত। এই সেতুর নাম সিনামালে সেতু। স্বল্প
ব্যয়ের হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং রাজধানীর সন্নিকটে থাকার জন্য এই দ্বীপটি পর্যটকদের কাছে
বেশ জনপ্রিয়।
মালে বিমানবন্দর
থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হুলহুমালের সৈকতে স্থলপথেই পৌঁছানো যায় ১০ মিনিটে।
বানানা রিফ
ছবি: সংগৃহীত
উত্তর মালে
এটলে অবস্থিত এই রিফ বিশ্বের সেরা ডাইভিং সাইটগুলোর মধ্যে অন্যতম। সমুদ্রের ভেতরে ৩০০ মিটার দীর্ঘ এ প্রবাল প্রাচীর চোখ ধাঁধানো নানা রং ছড়িয়ে দেয়। তাই রাতের বানানা রিফকে
কেউ কেউ এলিয়েন জগৎ বলে থাকে। এখানকার মূল আকর্ষণ স্কুবা, স্নোর্কেলিং, প্রবাল প্রাচীরে
জেট স্কিইং আর দর্শনীয় স্থানের মধ্যে আলিমাথা দ্বীপ, বিয়াধু দ্বীপ, মান্তা পয়েন্ট
অন্যতম।
ভবিনফারু
দ্বীপের সৈকত
এই দ্বীপের
সৈকত মালদ্বীপের সেরা পাবলিক সৈকতগুলোর মধ্যে একটি। এখানকার জেট স্কিইং, বন্যান ট্রি
ভবিনফারুর ঘরগুলো, প্যারাসেইলিং এবং স্নোর্কেলিং বছরের অধিকাংশ সময়ে ভিড়ের প্রধান কারণ।
তলদেশে প্রবাল আর রঙিন মাছের মাঝখানে নিজেকে প্রকাণ্ড অ্যাকোয়ারিয়ামে বন্দি মনে হবে।
মালে আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দর থেকে স্পিডবোটে করে ২৫ মিনিটে চলে আসা যায় এই সৈকতে।
মাফুসি দ্বীপ
ছবি: সংগৃহীত
মালদ্বীপের
দক্ষিণ এটলে অবস্থিত মাফুসি দ্বীপটি বিলাসবহুল রিসোর্ট এবং পাঁচ তারকা হোটেলে পূর্ণ
না থাকলেও এর আছে হোয়াইট স্যান্ডি সৈকত ও স্পার্কলিং ওয়াটার। এই নির্জন দ্বীপে মিলবে
উইন্ড সার্ফিং, কায়াকিং, স্কুবা ডাইভিং, ও প্যাডেল নৌকা।
রাজধানী
মালে থেকে ২৭ কিলোমিটার দূর অবস্থিত এ দ্বীপ।
ফুলহাধু
সৈকত
মালদ্বীপের
সাধারণ বিলাসিতা বা অত্যধিক ভিড় এই সৈকতের নিত্যনৈমিত্তিক দৃশ্য নয়। মালদ্বীপের শহরস্থলের
কোলাহল থেকে সম্পূর্ণ দূরে এক অপরূপ সমুদ্রস্নানের সুযোগের অপর নাম ফুলহাধু। মালে বিমানবন্দরের
সামনে থেকে স্পিডবোটগুলো চার ঘণ্টার মধ্যে এই সৈকতে পৌঁছে দেবে।
বাংলাদেশ
থেকে মালদ্বীপ ভ্রমণ খরচ
বাংলাদেশের
ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মালদ্বীপে যাওয়া-আসায় প্রায় ৪৩ থেকে ৬০ হাজার টাকা
পর্যন্ত খরচ পড়ে যায়। অন্তত দেড় মাস আগে থেকে টিকিট কাটলে বিমান ভাড়া অনেকটা সাশ্রয়ী
হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে শ্রীলঙ্কার বান্দারনায়াকে ট্রানজিট নিয়েও মালদ্বীপের মালেতে
পৌঁছানো যায়। শ্রীলঙ্কা থেকে আকাশপথে মালদ্বীপ যেতে সময় নেয় প্রায় ১ ঘণ্টা। এভাবে বিমান
ভাড়া বাবদ খরচ অনেকটাই কমে আসে। তা ছাড়া একসঙ্গে দুই দেশ ঘোরাও হয়।
মালদ্বীপের
পর্যটন এলাকা মূলত দুটি অংশে বিভক্ত। এক. পাবলিক আইল্যান্ড, দুই. প্রাইভেট আইল্যান্ড
যেখানে স্বভাবতই প্রাইভেটগুলোর খরচ আকাশছোঁয়া। রিসোর্টে না থেকে শহরে থাকতে গেলে দুজনের
জন্য খরচ পড়ে ৩ থেকে ৭ হাজার টাকা। আইল্যান্ডের কাছাকাছি কোন রিসোর্টে রাত্রি যাপনে
এই খরচ বেড়ে দাঁড়ায় জনপ্রতি ১৬ থেকে ২৮ হাজার টাকা। মালদ্বীপের খাবারের পেছনে খরচ যাবে
প্রতিবেলা ন্যূনতম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। স্পিডবোট ভাড়া প্যাকেজ মূল্য ১৫ থেকে ১৭ হাজার
টাকা।
পরিশিষ্ট
মালদ্বীপ
ভ্রমণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা উচিত। যেহেতু বেশ ব্যয়বহুল জায়গা, তাই ভ্যাকেশন
বা পিক সিজন এড়িয়ে চলাটাই উত্তম। এ ছাড়া ওখানকার সবকিছুতেই প্রায় ২৫ শতাংশ ট্যাক্স
আর এটাই সবকিছুর অত্যধিক দামের কারণ।
এসবি/এমএইচ/