আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১১ ডিসেম্বর ২০২৩ ১২:২৬
ফাইল ছবি
নিজের স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ
পাড়ি জমায় কানাডায়। তবে এখন অনেকেই কানাডা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন অন্য দেশে।
গত ৯ ডিসেম্বর রয়টার্সে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৩ সালের
প্রথম ৬ মাসে ৪২ হাজার মানুষ কানাডা ছেড়েছেন। ২০২২ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার ৮১৮
জন এবং আগের বছর ৮৫ হাজার ৯২৭ জন। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান এ তথ্য জানাচ্ছে।
গত দুই দশকে কানাডা ছেড়ে যাওয়া অভিবাসীদের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে
পৌঁছে ২০১৯ সালে। অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর কানাডিয়ান সিটিজেনশিপ
(আইসিসি) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে। কোভিড মহামারিতে এ সংখ্যা কিছুটা
কমে এলেও বর্তমানে তা আবারও বাড়ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অন্য
দেশ থেকে কানাডায় প্রবেশ করেছে ২ লাখ ৬৩ হাজার মানুষ। সেই তুলনায় দেশটি ছেড়ে যাওয়া
মানুষের সংখ্যা অনেক কম হলেও এই প্রবণতা ভাবিয়ে তুলেছে কিছু পর্যবেক্ষককে।
অভিবাসনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে কানাডা। অথচ সেখানে মানুষ
দেশটি ছেড়ে চলে যাচ্ছে। রয়টার্স জানায়, গত
৮ বছরে কানাডায় ২৫ লাখ মানুষ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি
হওয়ায় এ প্রবনতা বাড়ছে।
২০২২ সালে হংকং থেকে শরণার্থী হয়ে কানাডায় প্রবেশ করা ২৫ বছর
বয়সী ক্যারা বলেন, কখনোই ভাবিনি যে পশ্চিমা দেশগুলোতে আপনি শুধু একটি কক্ষের ভাড়া জোগাড়
করতে সক্ষম হবেন।
বেসমেন্টে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকেন ক্যারা। এ জন্য তাকে ৬৫০
কানাডিয়ান ডলার (প্রায় ৫৩ হাজার টাকা) পরিশোধ করতে হয় । ফলে প্রতি মাসে আয়ের ৩০ শতাংশই
চলে যায় বাসা ভাড়া বাবদ। বাকি খরচ মিটিয়ে মাস শেষে তার কোনো অবশিষ্ট থাকে না। অথচ হংকংয়ে
থাকা অবস্থায় তিনি তার আয়ের এক-তৃতীয়াংশ সঞ্চয় করতে পারতেন।
গত মাসে ট্রুডো সরকার নতুন নীতি চালু করেছে। এর আওতায় ২০২৫ সাল
থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ মানুষ কানাডায় নতুন বসতি স্থাপন করতে পারবেন। আবাসন খাতের ওপর
চাপ কমানোই এই নীতির উদ্দেশ্য। তবে অনেকেই মনে করছেন, এ পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় এবং অনেক
দেরি করে এটা নেওয়া হয়েছে।
এসএএল/