ডেস্ক রিপোর্ট

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


১১ আগস্ট ২০২৪ ০৯:৫৭



যানজটে আটকে গেল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গাড়ি বহর

ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

১১ আগস্ট ২০২৪ ০৯:৫৭

যানজটে আটকে গেল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গাড়ি বহর

ছবি: সংগৃহীত

ড. ইউনূসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রটোকলে নিয়োজিত সদস্যরা গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ান।

দেশের সব নাগরিকের জন্যে সমান অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে উত্তাল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের দায়িত্ব পান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাইতো প্রথা ভেঙে ভেরি ভেরি ইম্পরট্যান্ট পারসনের (ভিভিআইপি) প্রটোকল নিয়েও যানজটে অপেক্ষমান ছিলেন ড. ইউনূস। রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম সড়কে অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গেই লাইন মেনে চলে তাকে বহনকারী গাড়িবহর।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম কার্যদিবস রোববার (১১ আগস্ট) রাজধানীতে এমন ঘটনা ঘটেছে। ব্যস্ত সড়কে যানজটের কারণে বেশ কয়েক মিনিট ইউনূসের গাড়ি আটকে ছিল। তখন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রটোকলে নিয়োজিত সদস্যরা গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ান। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। জানা গেছে, রাজধানীর হ্যান্ডবল স্টেডিয়াম সংলগ্ন বক চত্বর এলাকায় ভিডিওটি করা হয়।

ভিডিওতে দেখা গেছে, ড. ইউনূসকে বহনকারী বিএমডব্লিউ গাড়ি ঘিরে রেখেছেন স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সদস্যরা। এ সময় চারপাশের উৎসুক জনতাকে লক্ষ্য করে বলতে শোনা যায়, আপনারা সবাই রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকুন। নিরাপদ দূরত্বে থাকুন। রাস্তা থেকে দূরে দাঁড়ান। কোনো গাড়ি ভেতরে ঢোকাবেন না। বাম পাশের রিকশা ডান পাশের লেনে ঢোকাবেন না। কেউ রাস্তা ক্রস করার চেষ্টা করবেন না।

বাংলাদেশের প্রশাসনিক নিরাপত্তা প্রটোকল বিধি অনুসারে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর চলাচলের সময় সড়কের এক পাশ খালি করে চলাচলের বিধান রয়েছে। তাদের চলাচলের ১৫ মিনিট আগে থেকেই নির্দিষ্ট সড়কটির একপাশ ফাঁকা করে সেখানে জনসাধারণের চলাচল বন্ধ করে রাখার নিয়ম অনুসরণ করা হয়।

ভিআইপি বা ভেরি ইম্পরট্যান্ট পারসন—এই শব্দগুলো প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের আইনে প্রবেশ করে সামরিক শাসকের হাত ধরে। ১৯৮৬ সালে তৎকালীন সামরিক শাসক ও প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ‘প্রেসিডেনশিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স অর্ডিন্যান্স-১৯৮৬’ শিরোনামে একটি অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির শারীরিক নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে প্রেসিডেনশিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (পিএসএফ) গঠন করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯১ সালে নির্বাচিত সরকারের আমলে অধ্যাদেশটি সংশোধন করে দ্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স অর্ডিন্যান্সের ওই আইনের অধীনে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) গঠিত হয়।

দ্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স অর্ডিন্যান্সের ধারা ৮(১) অনুযায়ী, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক নিরাপত্তা প্রদান করা। ‘ভিভিআইপি’ শব্দটি সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও এ থেকে বোঝা যায়, আইন অনুযায়ী ‘ভেরি ভেরি ইম্পরট্যান্ট পারসন’ হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

এমএইচ/