ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১৪ নভেম্বর ২০২৪ ০৮:৪১
ছবি: সংগৃহীত
সরকারের সঙ্গে দ্বান্দ্বিক সম্পর্কে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ছাত্র আন্দোলনের
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবিতে কিছুদিন আগে বঙ্গভবন এলাকায় বিক্ষোভ,
অন্তর্বর্তী সরকারে নতুন তিন উপদেষ্টা নিয়োগ নিয়ে বিতর্কসহ সমকালীন বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের
মধ্যে খোলামেলা আলোচনার জন্য বুধবার রাজধানীতে বৈঠক করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
বাংলামোটরে রূপায়ণ টাওয়ারে অনুষ্ঠিত ওই সভায় উপস্থিত ছাত্রনেতাদের অনেকে নানা বিষয়ে
সমন্বয়হীনতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, মূলত তিনটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রথমত,
এ সপ্তাহের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি নির্বাহী কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি
২০ থেকে ২২ সদস্যের হবে। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের
সমন্বয়কেরা থাকবেন। দ্বিতীয়ত, একটি অর্গানাইজিং (সাংগঠনিক) টিম থাকবে। এই টিম একাধিক
সেলে বিভক্ত থাকবে এবং সেল অনুযায়ী কাজ করবে। এই অর্গানাইজিং টিম এ মাসের মধ্যে গঠন
করার জন্য বলা হয়েছে। তৃতীয়ত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যে অর্গানোগ্রাম দেওয়া
হয়েছে চার সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির, সেটি এই সপ্তাহের মধ্যে বর্ধিত করে পূর্ণাঙ্গ
কমিটি হবে। এ ছাড়া ১৫ নভেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানের ১০০ দিন উপলক্ষে
ঢাকা ও ঢাকার বাইরে আন্দোলনে আহতদের খোঁজখবর নেবে কেন্দ্রীয় কমিটি; পাশাপাশি ঢাকায়
শহীদদের পরিবারগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে।
বৈঠকে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ,
রিফাত রশীদ, আরিফ সোহেল, ওমামা ফাতেমা, আবদুল হান্নান মাসউদ প্রমুখ।
বৈঠক শেষে ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন,
সাংগঠনিক জায়গা থেকে সিদ্ধান্তে এসেছি সরকারের সাথে আমাদের 'দ্বান্দ্বিক' সম্পর্ক হবে।
সরকারের ভালো কাজগুলোতে আমরা সঙ্গ দেব। তারা যদি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তাদের
সমালোচনা করব এবং তাদের পাশে থেকে ভুল শোধরানোর চেষ্টা করব।
দীর্ঘ এই আলোচনায় কী নিয়ে কথা হয়েছে- এই প্রশ্নে হান্নান বলেন,
আমাদের নিজেদের মধ্যে কোন সমন্বয়হীনতা হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে আলোচনা করেছি। যেগুলো
উঠে এসেছে সেগুলো কীভাবে উৎরানো যায় এবং একটি রূপরেখা কীভাবে দেওয়া যায়, সে বিষয়েও
আলোচনা হয়েছে।
সমন্বয়কদের মধ্যে যারা রাষ্ট্র চালাচ্ছেন, তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা
আছে, এমন অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আবদুল হান্নান বলেন, যারা রাষ্ট্র চালাচ্ছেন, তাদের
মধ্যে সমন্বয়হীনতা থাকলে এটা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সরকারের বাইরের অংশের সঙ্গে কী
হচ্ছে, সেটা আলাপের বিষয় নয়। তাদের মধ্যে যে সমন্বয়হীনতা আছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
১০ দিনের মধ্যে একটা রূপরেখা দেওয়া হবে।
সম্প্রতি দুজন উপদেষ্টার নিয়োগ নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, সে
বিষয়ে আরিফ সোহেল বলেন, কী প্রক্রিয়ায় নিয়োগ হচ্ছে, সেটা তারা জানতে চেয়েছেন। বর্তমানে
দলীয় সরকার ও সংসদীয় সরকার নেই, তাই সে আলোচনা করে নিয়োগের সুযোগ নেই। তাই কীভাবে নিয়োগ
হচ্ছে, তা নিয়ে মানুষের মতামত নিতে হবে।
সভা সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কাজ কী, তা
নিয়ে একজন নারী সহসমন্বয়ক প্রশ্ন তুলে বলেন, উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, সেখানে বৈষম্যবিরোধী
ছাত্র আন্দোলন কী করছে। সেটার একটা জবাবদিহি লাগবে। বৈষম্যবিরোধীরা কি সরকারকে সমর্থন
করে, সেটা বলতে হবে; নাকি একটা অংশ আছে, সেটা পরিষ্কার করতে হবে। আর যদি সেটা না হয়,
তাহলে আবার তারা ছাত্র হয়ে যাবে। আগে যেমন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিপক্ষে রাস্তায় দাঁড়াতেন,
সেভাবে রাস্তায় থাকি। না হলে জনগণ এসে গালি দিচ্ছে তাদের, যে উপদেষ্টা নেওয়া হচ্ছে,
কিন্তু কেউ জানছে না।
নিজেদের ব্যর্থতা আছে উল্লেখ করে হান্নান বলেন, যে কাজ তিন মাস
আগে করার কথা ছিল, তা তিন মাস পরে হয়েছে। এই সরকার যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে সব শেষ হয়ে
যাবে। এই সরকার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বসিয়েছে। তাদের মধ্যে অনেক কিছুতে সমন্বয়হীনতা
তৈরি হয়েছে। এটা ঠিক করতে হবে।
হান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র নেই, এমন খবর জানার
পর একটা মব তৈরি হয়েছে। তখন সেনাপ্রধান দেশে নেই। ওখানে যদি কোনো ডিজাস্টার হয়, তখন
কে দেখত। পরে ছাত্রলীগ নিষিদ্ধসহ তারা কিছু দাবি দেন। তাঁরা ভাবেননি যে এই দাবি নিয়ে
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনৈক্য দেখা দেবে এবং বিরোধিতা করবে। এটা তাঁদের ভাবা উচিত
ছিল। অনেক রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে রাজি হলেও একটা বড় দল রাজি হয়নি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহ-সমন্বয়ক মো. মোবাশ্বের বলেন,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় তাদেরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের করতে কতক্ষণ।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে বিতর্কিত
করা হচ্ছে। আর এটাকে বিতর্কিত করলে গণ-অভ্যুত্থানের যে লেজিটিম্যাসি, সেটাকেও বিতর্কিত
করা হবে। তারা ক্রিটিক্যাল হচ্ছেন। ক্রিটিক্যাল হলেই প্রগেস আসে। তারা সিট দখল করছেন
না, কাউকে আন্দোলনে আসতে বাধ্য করছেন না, কেউ ক্যানটিনে বাকি খাচ্ছেন না। এই সভায় যারা
আছেন, তাদের কেউ এটা করছেন না। তাদের পরিচয় ব্যবহার করে এগুলো করা হচ্ছে।
/এসবি