হাসান শাহাদাত তৌহিদ, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১৮ নভেম্বর ২০২৪ ০৯:২৪
হাসান শাহাদাত তৌহিদ। ছবি: সংগৃহীত
উপদেষ্টা পরিষদ থেকে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পদত্যাগের জন্য কয়েকটি পক্ষ দৃশ্যমান হলেও মূলত পক্ষ একটাই। সেই পক্ষ হলো মৌলবাদ ও ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠী। ফারুকী এন্টি আওয়ামী লীগ, এটা শতভাগ সঠিক। তবে তিনি দেশমাতা, প্রগতি কিংবা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী নন। এমনকি বঙ্গবন্ধুবিরোধীও নন।
ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীর জন্য ফারুকীর পদত্যাগ চাওয়া খুবই স্বাভাবিক। কারণ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি মৌলবাদ ও ধর্মব্যবসায় কুঠারাঘাত করেছেন। তাঁর নির্মিত টেলিভিশন যারা দেখেছেন, তারা জানেন কীভাবে তিনি ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার এবং ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে সরাসরি বার্তা দিয়েছেন। তাই তাঁকে নিয়ে ধর্মব্যবসায়ীদের অ্যালার্জি থাকাটা অস্বাভাবিক নয়।
এর আগেও একদল লোক ফারুকীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন—তিনি নাকি ২০১৩ সালে বলেছেন, ‘শাপলা চত্বর জঞ্জালমুক্ত হয়েছে।’ এর জবাবে ফারুকী ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে বলেন, ‘শাপলা চত্বরের ঘটনার পরে আমি বরং লিখেছি, মাদ্রাসার সাধারণ ছাত্রদের মৃত্যুতে আমি ঘুমাতে পারছি না!’ আপোষ করেও ফারুকী মৌলবাদীদের হাত থেকে রেহাই পাননি। বরং তাঁকে সমকামী ও শাহবাগী আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
অনেকে বলছেন, ফারুকী আওয়ামী লীগের দোসর, তাই তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে। এই অভিযোগ ভুয়া ও ভিত্তিহীন। যদি তা সত্য হত, তবে উপদেষ্টা বশির উদ্দিনও তো আওয়ামী লীগের দোসর। জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে বশির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাহলে বশির উদ্দিনের বিরুদ্ধে এত জোরালো আন্দোলন নেই কেন?
ফারুকীর পদত্যাগ ইস্যু মূলত প্রগতি ও অপ্রগতির লড়াই। সেনা-সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার কি এই মৌলবাদকে মোকাবিলা করতে পারবে, নাকি মৌলবাদীদের দাবির মুখে ফারুকীকে পদত্যাগ করিয়ে ছাড়বে? তা সময়ই বলে দেবে।
অপরদিকে, ফারুকী ও বশির দুজনই পদত্যাগ না করলে সরকার পতনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামী আন্দোলনের একটি অংশ। এতে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ উভয়েরই সুবিধা। বিএনপি চায়, সরকার দ্রুত নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা তাদের হাতে তুলে দিক। আর আওয়ামী লীগ চায়, সরকার ব্যর্থ হোক। যদিও এ সরকারের ব্যর্থতা জনগণ নিজেরাই বুঝতে পারছেন, আওয়ামী লীগের তা বলতে হবে না।
হাসান শাহাদাত তৌহিদ
লেখক ও সাংবাদিক