ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
২১ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৮:৪৭
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী মুহতাসিম মাসুদ নিহতের ঘটনায় মামলা নিতে পুলিশ অসহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারসহ পাঁচ দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো বিবৃতি দিয়েছেন সহপাঠীরা।
শনিবার দুপুরে
বুয়েটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লিখিত এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, মামলা
নিতে পুলিশ অসহযোগিতা করেছে। বিবৃতি পড়েন নিহতের তিন সহপাঠী।
শিক্ষার্থীরা
বলেন, বিকেলে সহপাঠী নিহতের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিতের
দাবিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি জমা দেবেন তারা। শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ
করেন, আসামিপক্ষের আইনজীবী বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছেন। এ ছাড়া গণমাধ্যমে ‘হত্যাকাণ্ড’কে
দুর্ঘটনা বলে প্রচার করা হয়েছে।
মামলা
নিতে অনীহার অভিযোগ
শিক্ষার্থীরা
অভিযোগ করে বলেন, কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পৌঁছায়। পুলিশ প্রাইভেট কারের চালকসহ
তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রথমে রূপগঞ্জ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায় এবং পরে
তাদের রূপগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরাও তাদের সঙ্গে থানায় পৌঁছান। থানায়
ঘটনার বিবরণ জানার পরে কর্তব্যরত এসআই মামলা নেওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা প্রকাশ করেন এবং
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ করেন। পরদিন সকাল আটটায় আরও একদল শিক্ষার্থী
বুয়েটের কয়েকজন শিক্ষক, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা, প্রধান নিরাপত্তাকর্মীসহ থানায়
যান। তখন থানায় কোনো ওসি ছিলেন না এবং যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি দেরি করতে থাকেন।
ঘণ্টাখানেক পর ওসি থানায় আসেন এবং শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
বুয়েট শিক্ষার্থীরা
আরও অভিযোগ করেন, এ সময় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহ আল মামুন এবং চালকের পরিবারের
লোকজন বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। অভিযুক্তের মা নানাভাবে শিক্ষার্থীদের
ক্ষতিপূরণ দেবেন বলে জানান।
শিক্ষার্থীদের
পাঁচ দাবি
১. যেকোনো
মূল্যে এই হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতকরণ। ২. আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার
অবশ্যই বিবাদীপক্ষকে বহন করতে হবে। ৩. নিহত মাসুদের পরিবারকে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান
করতে বিবাদীপক্ষকে বাধ্য করতে হবে। ৪. তদন্ত কার্যক্রমে বাধাদানের চেষ্টা করলে তাদের
বিরুদ্ধে অভিযোগ সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। ৫. সড়ক দুর্ঘটনার কারণে আর কারও
প্রাণ যেন না যায় এবং সড়কে নিরাপত্তা যেন নিশ্চিত হয়, সেই ব্যাপারে যথোপযুক্ত ভূমিকা
রাখতে হবে।
উল্লেখ্য,
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল উপশহরের
৩০০ ফুট নীলা মার্কেট (কুড়িল-কাঞ্চন সড়ক) এলাকায় একটি প্রাইভেট কার বেপরোয়া গতিতে এসে
স্থির দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেলসহ তিনজনকে আঘাত করে। এ ঘটনায় বুয়েটের কম্পিউটারবিজ্ঞান
ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মুহতাসিম মাসুদ (২২) ঘটনাস্থলেই নিহত
হন। তিনি রাজধানীর গ্রিন রোডের বাসিন্দা মাসুদ মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় আহত দুজন মেহেদী
হাসান খান (২২) ও অমিত সাহা (২২) বুয়েটের সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী। প্রাইভেট কারটি
চালাচ্ছিলেন মুবিন আল মামুন। তার সঙ্গে ছিলেন মিরাজুল করিম ও আসিফ চৌধুরী। মুবিন অবসরপ্রাপ্ত
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল মামুনের ছেলে।
ঘটনার পর
মুহতাসিমের বাবা সড়ক পরিবহন আইনে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা
হলেন প্রাইভেট কারের চালকের আসনে থাকা মুবিন আল মামুন (২০)। গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন
ওই গাড়িতে থাকা মিরপুরের পীরেরবাগের রিজওয়ানুল করিমের ছেলে মিরাজুল করিম (২২) ও উত্তরা
১৩ নম্বর সেক্টরের বাহাউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে আসিফ চৌধুরী। তারা তিনজনই শিক্ষার্থী। ডোপ
টেস্টে (মাদক পরীক্ষায়) তাদের দুজনের শরীরে অ্যালকোহলের উপস্থিতি ধরা পড়েছে।
/এসবি