শেখ সাদী খান

বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোর


০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৬:০৬



পাবনা-২ আসন: মাঠে সক্রিয় আ. লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্রাট

শেখ সাদী খান, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৬:০৬

পাবনা-২ আসন: মাঠে সক্রিয় আ. লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্রাট

ছবি : বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পাবনা-২ আসনে নিয়মিত গণসংযোগ করছেন ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর উপ-কমিটির সাবেক সদস্য সম্রাট ইমরান সিরাজ। তিনি উঠান বৈঠক করে বর্তমান সরকারের দৃশ্যমান সকল উন্নয়ন সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরছেন।

দলীয় একাধিক সূত্র বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোরকে জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই পাবনা-২ আসনে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে চলেছেন সম্রাট। তিনি পাবনা-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জোরালো দাবিদার হয়ে উঠেছেন।

তিনবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য হয়েছেন সম্রাট ইমরান সিরাজ। ১/১১ সময় দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কারামুক্তি আন্দোলনে আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে থেকে নিয়মিত মিছিল-মিটিংয়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়া শেখ হাসিনার মুক্তির দাবীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে, ছাত্রলীগের সকল ইউনিট, ওয়ার্ডে আন্দোলনকে বেগবান করার লক্ষ্যে বর্ধিত সভা ও গণসাক্ষরতা কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে সম্রাটকে উত্তরবঙ্গের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট ও পঞ্চগড় এই চার জেলার বর্ধিত সভা ও গণসাক্ষর সংগ্রহের দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি তেঁতুলিয়া থেকে বর্ধিত সভা ও গণসাক্ষর সংগ্রহের কর্মসূচি শুরু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। 

সম্রাট ২০০১ সালে সুজানগর উপজেলার দুলাই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। একই বছর সুজানগর উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য ও ২০১১ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া উপকমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। 

সম্রাটের বাবা সিরাজুল ইসলাম সিরাজ সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ৫ বারের নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসলে দ্রুত বিচার আইনে পিতা পুত্র টানা তিন মাস কারাগারে বন্দি ছিলেন।

পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়াকালীন ছাত্রলীগকে সংগঠিত করতে কাজ করেন। চার দলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালে রাজধানীতে আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে গ্রেনেড হামলার পর এর প্রতিবাদে পিতা সিরাজুল ইসলামের  নেতৃত্বে সুজানগর উপজেলায় আন্দোলন সংগঠিত করেন।

সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও ইউনিটের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন সম্রাট। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি স্বনামধন্য পরিবারের সন্তান হিসেবে মানুষের সেবা করে চলেছেন। দরিদ্র অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, রক্তদান কর্মসূচি, প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রী, ত্রাণসামগ্রী, নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। অনেকের স্থায়ী কর্মসংস্থানের জন্য ভ্যান, রিক্সা প্রদান করেছেন। অনেক অসহায় পঙ্গু মানুষকে হুইল চেয়ার প্রদান করেছেন। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, উঠতি বয়সী তরুণ প্রজন্মকে সকল প্রকার নেশাদ্রব্য থেকে দূরে রাখতে এবং মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি, এলাকার মুরব্বিদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা করছেন সম্রাট। তিনি করোনা মহামারির সময়ে সুজানগর উপজেলায় সরকারি, বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক, অফিসে, থানায় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী পিপিই, হ্যান্ডস্যানিটাইজার, ব্লিচিং পাউডার বিতরণ করেন। সে সময়ে কয়েকশ অসহায় মানুষের ঘরে শুকনো খাবারসহ চাল, ডাল, সবজি পৌঁছে দেন। 

আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশার বিষয়ে জানতে চাইলে সম্রাট ইমরান সিরাজ বেঙ্গল নিউজ টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিবারের বেড়ে উঠায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে  আমার সবসময় নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। এজন্য সাধারণ মানুষের চাওয়া পাওয়া, তাদের অভাব অভিযোগ খুব কাছ থেকে জানা ও দেখার সুযোগ হয়েছে। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি না হলে সাধারণ মানুষের জন্য তেমন কিছু করা যায়না। একজন জনপ্রতিনিধি হলে কাজের ক্ষেত্র ও পরিবেশ তৈরি হয়। জনপ্রতিনিধি না হয়েও কাজ করা যায়, কিন্তু সেটা খুব ক্ষুদ্রপরিসরে হয়। বৃহৎ পরিসরে কাজ করার জন্য সংসদ সদস্য নির্বাচনের বিষয়ে আগ্রহী হয়েছি’

নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ে সম্রাট ইমরান সিরাজ বলেন, ‘সুজানগর  কৃষি ও মৎস্য প্রাণিসম্পদ এলাকা। কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারলে এলাকার শিক্ষিত কর্মঠ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়। এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। পাবনার বিখ্যাত গাজনার বিল, মৎস্য সম্পদের অভয়ারণ্য। এই মৎস সম্পদ কাজে লাগাতে পারলে, বিদেশে রপ্তানি করলে দেশের অর্থনীতিতে পাবনা রোল মডেল হবে। এছাড়া পাবনা অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা করলে, ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালু হলে, এখানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। চাকুরীর জন্য মানুষ ঢাকামুখী হবে না ‘।

সম্রাট বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে পদার্পণ করেছে, স্মার্ট বাংলাদেশ ঘোষণা করা হয়েছে এই উন্নয়ন ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোদ্ধা হতে চাই।’

জেডএস/