ডেস্ক রিপোর্ট, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
১৯ নভেম্বর ২০২৪ ০৯:৪৪
ছবি সংগৃহীত
তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কমিটি গঠনের আশ্বাস পেয়ে আপাতত রাজপথে আন্দোলন না করার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
একইসঙ্গে
ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শুরু করা ‘ক্লোজডাউন তিতুমীর’ কর্মসূচিও স্থগিত করা
হয়েছে।
তবে, সাতদিনের
মধ্যে কমিটি ঘোষণা করা না হলে আবারও রাজপথ অবরোধ শুরু করার ঘোষণাও দিয়েছেন তিতুমীরের
শিক্ষার্থীরা।
অবরোধ ও
ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি স্থগিত থাকার সময়টিতে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরের দাবিতে
ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক কাউন্সিলিং ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করবেন তারা।
মঙ্গলবার
(১৯ নভেম্বর) রাত পৌনে ৮টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে অবরোধ ও ক্লাস-পরীক্ষা
বর্জন কর্মসূচি স্থগিত করেন শিক্ষার্থীর।
আন্দোলনরত
শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেন বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরের দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীদের
মোর্চা ‘তিতুমীর ঐক্যের’
সংগঠক মাহমুদুল হাসান।
এর আগে সন্ধ্যায়
সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা সম্ভব কি না, সেটি যাচাইয়ে আগামী
রোববার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে কমিটি গঠনের কথা জানান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র
তথ্য কর্মকর্তা সিরাজ-উদ-দৌলা খান।
ওই ঘোষণার
আগে মন্ত্রণালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি
উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম ও শিক্ষা উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক এম আমিনুল ইসলাম।
ছয়জন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ওই আলোচনায় অংশ নেন।
পরে রাতে
সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুল হাসান বলেন, "প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত
হয় আগামী সাত দিনের ভেতর তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় কেন হতে পারবে এ বিষয়ে কমিটি গঠন করা
হবে এবং তারা স্বশরীরে এটিকে পর্যবেক্ষণ করবেন। একটি নির্ধারিত তারিখের ভেতর তারা প্রতিবেদনটি
জানাবেন। আমরা এ আশ্বাস পেয়ে সেখান থেকে চলে এসেছি।
"সাধারণ
শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন প্রত্যাহার বলে অনেক মিডিয়ায় প্রকাশ হয়ে গেছে। আন্দোলন
প্রত্যাহার নয়, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের আইনের প্রতি সম্মান রেখে আমরা রাজপথ থেকে সরে আসছি।
তবে পূর্বঘোষিত বারাসাত ব্যারিকেড টু মহাখালী যে কর্মসূচি আমাদের চলমান সেটি বিশ্ববিদ্যালয়
গঠিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান থাকবে।"
তিনি বলেন,"এখন
আমরা ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক কাউন্সিলিং ও সাধারণ ছাত্রদের সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম আমাদের
ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক হবে।"
"আগামী
সাতদিনের ভেতর যদি কমিটি গঠন করা না হয় তাহলে সাতদিন পর আমরা আবারও আগের অবস্থানে ফেরত
যাব। এটার জন্য তিতুমীর কলেজ, তিতুমীর ঐক্য বা সাধারণ শিক্ষার্থীরা দায়ী থাকবে না,
রাষ্ট্র দায়ী থাকবে।"
এক প্রশ্নে
মাহমুদুল হাসান বলেন, "যেহেতু রাষ্ট্রের প্রতি আমরা সম্মান জানিয়েছি, সেহেতু তিতুমীর
ক্লোজডাউন কর্মসূচিটিও স্থগিত করা হল। ক্লাস-পরীক্ষা আগের মত করেই চলতে পারে।"
সোমবার মহাখালীতে
রেলপথ অবরোধের সময় ট্রেনে ঢিল ছোড়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "এ ঘটনায়
জড়িতদের খুঁজে বের করতে চেষ্টা করছি।"
তিতুমীর
কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরের দাবিতে সোমবার মহাখালীতে রেল ও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ
করেন শিক্ষার্থীরা। দিনভর অবরোধের পর রাতেও তারা সড়ক আটকে রাখেন। মঙ্গলবার থেকে তিতুমীর
কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের ঘোষণা দিয়ে সড়ক ছাড়েন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার
সকালে 'ক্লোজডাউন তিতুমীর' কর্মসূচি পালনকালে ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক পুলিশ প্রবেশ
করায় বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভের মুখে দুপুর পৌনে ১টার দিকে পুলিশ সদস্যরা
ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে গেইটের সামনে অবস্থান নেন।
এসএএল/