ফরিদপুর প্রতিনিধি, বেঙ্গলনিউজ টোয়েন্টিফোর
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৭:০৯
ছবি : সংগৃহীত
ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ প্রায় ২১ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত মৃতের স্বজনরা হলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধার নাতি আলমগীর বিশ্বাস (২৮), তৌহিদ বিশ্বাস (২৫), আলিফ খান (১৪) ও হামজা খান (১২), মেয়ে জেসমিন (৪২), সাবিনা ইয়াসমিন (৫০) ও রেবেকা সুলতানা মনি (৩৫) ও স্ত্রী হালিমা। আহতদের মধ্যে ৪ জনকে পুলিশ হেফাজতে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অপরদিকে
আহত ইন্টার্নরা সকলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল
কলেজ হাসপাতাল ছাত্রাবাসে থাকেন। তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
হাসপাতাল
ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে ফরিদপুর সদর উপজেলার কমলাপুরের বাসিন্দা বীর
মুক্তিযোদ্ধা নয়ন খান (৯৫) নিজ বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়লে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়ার কিছুক্ষণ পরে তিনি মারা যান। এ নিয়ে ডাক্তার
ও স্বজনদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। মৃত ব্যক্তি নয়ন খানের বাড়ি হাসপাতালের কাছে হওয়ায়
তাদের আত্মীয়-স্বজন হাসপাতালে এসে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও স্টাফদের সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে
পড়েন। এতে ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ প্রায় ২১ জন আহত হন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা
নয়ন খানের নাতি আলমগীর বিশ্বাস জানান, ‘রাত ১২টার দিকে নানার শ্বাস কষ্ট হলে নার্সদের
জানাই। তারা ইমার্জেন্সিতে চিকিৎসককে জানাতে বলেন। এরপর ইমার্জেন্সিতে কর্তব্যরত চিকিৎসককে ওয়ার্ডে গিয়ে নানাকে একটু দেখার জন্য ও পরে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়ার
অনুরোধ জানাই। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থাই নেননি। কিছুক্ষণ পর এসে দেখি আমার নানা মারা
গেছেন।’
আলমগীর বিশ্বাস
আরও জানান, ‘ডাক্তারদের সঙ্গে আমাদের কথা কাটাকাটি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মা
আমাকে সেখান থেকে সরিয়ে একটি বাথরুমে আটকে রাখেন। এরপর প্রায় ৫০-৬০ জনের মতো এসে বাথরুম
থেকে বের করে আমার ওপর হামলা চালায়।’
ফরিদপুর
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল জানান, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ
ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। আহতরা আশঙ্কা মুক্ত। মৃত ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজনদের
থানায় আনা হয়। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা
স্বাভাবিক আছে। চিকিৎসকরা সভায় বসেছেন। এ বিষয়ে
আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের
পরিচালক এনামুল হক জানান, ‘হাসপাতালে প্রতিদিনই
কমবেশি ঝামেলা হয়। আমি হাসপাতালের বাইরে এবং ছুটিতে আছি। তবে মারামারির কথা জানতে পেরেছি।
ঘটনার বিস্তারিত জেনে পরবর্তী সময়ে জানানো সম্ভব হবে।’
জেডএস/